অলস্পাইসগাছের পাতায় আছে পাঁচ রকমের মসলার ঘ্রাণ। জায়ফল, জয়ত্রী, লবঙ্গ, দারুচিনি ও গোলমরিচ সব ঘ্রাণ একসঙ্গে! এ কারণেই হয়তো এর নাম রাখা হয়েছে অলস্পাইস। অলস্পাইস গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরহরিৎ গাছ এবং অত্যন্ত সুগন্ধযুক্তমশলা ।
উজ্জ্বল চকচকে সবুজ রং নিয়ে পাতাগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আকাশের সঙ্গে যেন মিতালি পাতাতে চায়। পাতাগুলো দেখতে অনেকটা লবঙ্গগাছের মতো, তবে লবঙ্গগাছের পাতার চেয়ে এর পাতা কিছুটা ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার, চওড়াও বেশি।
অলস্পাইস ও লবঙ্গগাছ একই মনে হতে পারে কিন্তু পার্থক্যটা হল অলস্পাইসের পাতা কিছুটা পুরু, চকচকে ও সুঘ্রাণযুক্ত। চিরসবুজ এ গাছের বাকল ও ডালপালা দেখতে অনেকটা পেয়ারা ও লবঙ্গগাছের মতো, বাকল মসৃণ ও ধূসর বাদামি। কচি ডালের রং সবুজ ও নরম।
এর পাতা ছায়ায় শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখা হয়। সেই গুঁড়ো রান্নায় ব্যবহার করা হয়। বিদেশে একে বলা হয় কারি পাউডার।
এর ইংরেজি নাম পিমেন্টা বা জ্যামাইকান পিমেন্টা। একে মির্টেল পেপার নামেও ডাকা হয়। অলস্পাইসের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম pimenta dioica। পরিবার মির্টেসি। গাছ মাঝারি আকারের। দক্ষিণ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা এর আদিনিবাস। এখন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জগতের সব মসলার ঘ্রাণ এতে নেই। তবু নাম অলস্পাইস কেন? ১৬২১ সালে ইংরেজরা এ গাছে দারুচিনি, লবঙ্গ ও জায়ফলের ঘ্রাণ পেয়েছিলেন বলে এর নাম দিয়েছিলেন অলস্পাইস। আজ সারা বিশ্বে এ গাছের সে নামটাই পরিচিত।
অলস্পাইসগাছে ফুল ফোটা শুরু হয় মে থেকে, ফল পাওয়া যায় আগস্ট পর্যন্ত। থোকা ধরে প্রচুর ফল হয়। ফল বুটের দানার মতো গোলাকার; কাঁচা ফলের রং সবুজ, পাকলে কালো হয়। সাধারণত এর কাঁচা ফল সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা ফল রোদে শুকিয়ে বাদামি করা হয়। কাঁচা পাতা রোদে শুকিয়ে তেজপাতার মতো ব্যবহার করা যায়।
অলস্পাইসগাছ থাকলে সারা বছর বাড়ির বাতাসে একরকমের সুঘ্রাণ উপভোগ করা যেতে পারে। এ গাছ বাঁচে প্রায় ১০০ বছর। বীজ ও শাখা কলম করে এর চারা তৈরি করা যায়।
