দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রঙ আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক মিষ্টি। কাশ্মীরী কুলের ফলন অনেক বেশী হওয়ায় কৃষক খুব কম সময়ের মধ্যে লাভবান হতে পারে। প্রচলিত আপেল কুল ও বাউকুলের থেকে আকারে বেশ বড় এই কাশ্মীরি আপেল কুল।
এই জাতের কুল গাছে শীতের শুরুতে ফুল আসতে শুরু করে এবং ফেব্রুয়ারি থেকে মাছ মার্চ মাসের মধ্যে। এই জাতের কুল লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বৃহৎ আকারে চাষীরা বাগান করতে মনোনিবেশ করছে। অনেকে আবার শখ করে ছাদ বাগানে রোপন করে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে থাকে।
জলবায়ু মাটি ও রোপণ পদ্ধতিঃ
কুল গাছ অত্যন্ত কষ্ট সহিষ্ণু। শুস্ক ও উষ্ণজলবাযূ কুল চাষের জন্য উত্তম । অতিরিক্ত আাদ্রতা কুল চাষের জন্যেভাল নয়। গভীর দে-আঁশ বা উর্বর মাটি কুল চাষের জন্যে উপযোগী।সাধারণত: জমি ভালভাবে চাষ দিয়ে আগাছা পরিস্কার করে বেড তৈরী করেনিতে হবে।
সাধারনত ৫ হাত দুরত্বে, ৬০-৮০ সে.মি. গর্ততৈরী করে কুলের চারা রোপন করতে হবে। সাধারণত: বাণিজ্যিক আকারে বাগানের জন্য জানুয়ারী থেকে মার্চ এর মধ্যে চারা রোপনের উপযুক্ত সময়, টবে সারাবছর ই লাগানো যায়।
সার ও পানি ব্যবস্থাপনা
সাধারণত: মাদাতে চারা রোপনের ১৫-২০ দিন পূর্বে মাদা প্রতি ২০-২৫কেজি পঁচা গোবর, ২০০ গ্রাম টিএসপি, ২০০ গ্রাম পটাশ, ১০০ গ্রামইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ ও নিকাশঃ
প্রতিবার সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনীয় রস সরবরাহের জন্য সেচ দিতে হবে। এছাড়াও বর্ষাকালে পানি নিকাশ ও খরা মৌসুমে নিয়ামিত সেচ প্রদান করতে হবে। তবে ফল ধরার পর সেচের অভাব হলে ফল ঝরে যাওয়ার প্রবনতা বেড়ে যায় তাই এ সময় সেচের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে।
পোকা ও রোগঃ
কুলে রোগাক্রান্তের পরিমান খুবই কম তবে মাঝে মাঝে ছত্রাকের আক্রমন হয় সঠিক ছত্রাক নাশক স্প্রে করলে ছত্রাক ও রোগ কমে যায়।
সাধারনত গাছে পাতা খেকো পোকা ,মাকড়, জাব,ফলের মাছি পোকা ইত্যাদি পোকার আক্রমন হয়।
এই পোকা দমনে সঠিক সময়ে অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করলে পোকার আক্রমন কম হয় ।
