লবঙ্গ গাছ একটি সুগন্ধযুক্ত চিরসবুজ গাছ যা মূলত এর কুঁড়ির জন্য পরিচিত। এই কুঁড়িই আমাদের কাছে লবঙ্গ নামে পরিচিত। লবঙ্গ গাছের ফুলের কুঁড়িকে শুকিয়ে লবঙ্গ মসলা তৈরি করা হয়। লবঙ্গ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium aromaticum। এটি Myrtaceae পরিবারভুক্ত একটি গাছ। এই পরিবারে গুল্মজাতীয় এবং চিরসবুজ গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকে যাদের অধিকাংশেরই রয়েছে ঔষধি গুণাবলি এবং সুগন্ধ।
খাদ্যদ্রব্যে মসলা হিসাবে এটি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত রান্নার মসলা হিসেবে লবঙ্গ ব্যবহৃত হলেও এর স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বও অনেক।
এই গাছের উৎস মূলত ইন্দোনেশিয়া। পরবর্তীতে এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা, মাদাগাস্কার, তাঞ্জানিয়া এবং ব্রাজিলসহ নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তাঞ্জানিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় লবঙ্গ রপ্তানিকারক দেশ।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
লবঙ্গ আমাদের রান্নাঘরের পরিচিত একটি মশলা। এটা খাবারে স্বাদ ও ঝাঁজ এনে দেয়। তবে রান্নার বাইরেও লবঙ্গের রয়েছে অসাধারণ ভেষজ গুণ। সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত লবঙ্গের উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
লবঙ্গে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন কে, ও প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ। ম্যাঙ্গানিজ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে।
লবঙ্গে ইউজেনল নামে একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে। এটা শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালস কমায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ক্যান্সারসহ সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে একটা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে লবঙ্গের ইউজেনল।
লবঙ্গে নাইজেরিসিন নামে একটা উপাদান আছে। এটা ইনসুলিন উৎপাদন করতে সক্ষম। ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে নাইজেরিসিন কার্যকর ভূমিকা রাখে।
লবঙ্গের আছে অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল গুণ। দাঁত, মাড়ি ব্যাথ্যা দ্রুত উপশম করে লবঙ্গ। সাইনাসের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে লবঙ্গ। লবঙ্গ তেলও দাঁতের ব্যথা উপশমে কার্যকর।
লবঙ্গ পাকস্থলীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এটা গ্যাসট্রিক মিউকাস উৎপাদনে সাহায্য করে। পেপটিক আলসার প্রতিরোধে গ্যাসট্রিক মিউকাস বিশেষভাবে কার্যকরী। এছাড়া লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
কীভাবে লবঙ্গ ব্যবহার করবেন?
সর্দি-কাশিতে লবঙ্গ দিয়ে চা পান করতে পারেন। এ ছাড়া গরম পানিতে লবঙ্গ ফুটিয়ে পান করতে পারেন। কাঁচা লবঙ্গ চিবিয়ে বা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
সতর্কতা
ডায়াটিশিয়ানদের মতে, অতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়া বিপজ্জনক। এটা রক্ত পাতলা করে, ফরে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। হাইপোগ্লাইসিমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। লবঙ্গ বা এর তেলে অনেকর অ্যালার্জি হতে পারে।
লবঙ্গ শুধু রান্নার মশলা নয়, এটি রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে কার্যকর একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। তবে লবঙ্গের ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োগ করা উচিত।
