মিস্টি কামরাঙ্গা এর বৈজ্ঞানিক নাম Averrhoa carambola Linn, ইংরেজি নাম Chinese gooseberry বা Carambola । ফলের স্বাদ টক-মিষ্টির মিশেল, পাকলে মিষ্টি হয়। এই ফল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ।সারা বছরই কামরাঙা গাছে কম-বেশী ফল থাকে।এই ফল দৈর্ঘ্য প্রায় ২ থেকে ৬ ইঞ্চি (৫.১ থেকে ১৫.২ সেমি) এবং উপবৃত্তাকার আকৃতির হয়। এর সাধারণত পাঁচটি বিশিষ্ট অনুদৈর্ঘ্য ঢাল থাকে, কিন্তু বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে কখনো ৪টি অথবা ৮টি বা তারচেয়ে বেশি ঢাল থাকতে পারে। ক্রুশ আকৃতির বিভক্তি বা ভাগের কারণে এটি দেখতে তারকাসাদৃশ।
আমরা কামরাঙা বলতেই কিছুটা টক কিছুটা মিষ্টি স্বাদের কথা ভাবি। গ্রাম বাংলায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কামরাঙা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এ ফলের স্বাদ কিছুটা টক-মিষ্টি। কিন্তু থাই জাতের কামরাঙার স্বাদ মিষ্টি। এই মিষ্টি কামরাঙা অতি সহজেই ছাদে টবে সহজেই চাষ করা যায়। ফলনও খুব ভালো হয়। একটি থাই মিষ্টি কামরাঙার কলমের চারা থেকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব। সারা বছরই কমবেশি ফল গাছে থাকে তবে জুন-জুলাই এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বেশি পরিমাণে ফল পাওয়া যায়। ছোট টব এমনকি ১২ ইঞ্চি টবেও এর চাষ করা সম্ভব। যেকোনো মাটিতেই মিষ্টি কামরাঙার চাষ সম্ভব। কামরাঙার রোগ-বালাই খুবই কম।
চাষ পদ্ধতিঃ
ছাদে কামরাঙার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে ।
এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার, একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে । যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে ।
চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায় । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে ।
চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে । আস্তে আস্তে পানি বাড়াতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে আবার বেশী শুকিয়েও না যায় । কামরাঙা গাছে পানি বেশী হলেও পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে ঝরে যায় আবার পানি একদম শুকিয়ে গেলেও একই অবস্থা হয়।
