সুদর্শন ফুল নীলঘণ্টা বহুবর্ষজীবী লতানো বা আরোহী উদ্ভিদ। ঘন্টা আকৃতির এ ফুল পাতার কক্ষে এক বা একাধিক ফুল ফোটে। শীতকাল ছাড়া প্রায় সারা বছর গাছে ফুল ফুটে । সরাসরি মাটিতে বা টবে লাগানো যায়। ডাল কাটিং এর মাধ্যমে নীল ঘন্টা ফুলের বংশ বিস্তার ঘটে থাকে।
নীলঘন্টাফুল ঘণ্টার মতো ঝুলে থাকে গাছে।ফুল ঝোপাল গাছগুলোর পাতার আড়ালে অনেকটাই লুকিয়ে থাকে। ফুল ফোটে কিছুটা এলোমেলোভাবে।কিন্তু যখন ফুল ফুটে তখন একসাথে অনেকগুলো ফুটে।পুরো গাছ জুড়ে ফুলের মেলা বসিয়ে দেয়।এবং বাগান সাজানোর কাজে বেশ কার্যকর।
নীলঘন্টা-নীল রঙের এবং দেখতে অনেকটা ঘন্টা আকৃতির বলেই এর নাম নীলঘন্টা। তবে যে শুধু নীলই হয় এর রং তা কিন্তু নয়,সাদা, হালকা নীল, বেগুনী রঙের হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশে হালকা নীল ও বেগুনি রঙটাই বেশি দেখা যায়। তাই হয়তো বাংলায় এর নাম – নীলঘন্টা।
নীলঘন্টা এর আদি নিবাস আফ্রিকা বলে ধরা হয়। চমৎকার এই ফুলটি বাগানের শোভাবর্ধন অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। গুল্মজাতীয় এই উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Thunbergia erecta। এটি Acanthaceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ। সাধারনত ৪-৬ ফুট পর্যন্ত লম্বাহয়। অন্যান্য নামের মধ্যে bush clock vine, king’s mantle উল্লেখযোগ্য।
গাছ প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে, শীতকালে অল্প সময়ের জন্য পাতা ঝরে। গাছ না ছেঁটে লতাও বানানো যায়। পাতা ছোট, তিন থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা ও মসৃণ। ফুল ফোটে পাতার কোলে, একেকটি বা সজোড়, গাঢ়-নীল বা নীল-বেগুনি, চওড়া ও সামান্য বাঁকা, তিন সেন্টিমিটার লম্বা দলনল সাদা, ভেতর হলুদ, মুখ প্রায় চার সেন্টিমিটার চওড়া। গোড়ার চারা ও কলমে চাষ।
