নীলচিতা ফুলের প্রাচুর্য এবং সৌন্দর্যই তার বিশেষ গুণ। রঙের জৌলুশ এবং প্রস্ফুটন প্রাচুর্য এ ফুলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ কারণে অনেক দূর থেকেই ফুলটি আমাদের আকৃষ্ট করতে পারে। মনোলোভা রঙের কারণে ইদানীং প্রায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নীলচিতা পৃথিবীর নানান দেশে বাড়ির আঙিনা, বাগান এবং বাণিজ্যিক ভূ-সজ্জায় বহুল ব্যবহূত একটি ফুল। সারা বিশ্বে এই প্রজাতির ১০টি রকমফের দেখা যায়। নীলচিতার ইংরেজি নাম Plumbago capensis, Blue plumbago, Cape plumbago বা Cape leadwort এই গাছ কোথাও কোথাও নীলচিত্রক নামেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Plumbago zeylanica নীলচিতা চিরসবুজ ঝোপালো ধরনের গুল্মশ্রেণির গাছ। জন্মস্থান দক্ষিণ আফ্রিকায়।
এই গাছের জন্য সরাসরি রোদের প্রয়োজন হলেও এটি ছায়াও সহ্য করতে সক্ষম। ফুল সারা বছর ফোটে রোদে ফুল ফোটে সবচেয়ে বেশি। তবে কম আলোতেও এর ফুল ফোটে। থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। এবং এ ফুলের সৌন্দর্য সকলকেই মুগ্ধ করে। এতে নিয়মিত পানি দিতে হয়।বছরে একবার বসন্তকাল নাগাদএতে সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। ছোট ছোট ৫ টি পাপড়ি বিশিষ্ট হাল্কা নীল বা আকাশি রঙের এই ফুল গুচ্ছবদ্ধ হয়ে ফোটে,কাটিং থেকে এর চারা তৈরী হয়। একবার ফুল ফোটার পর গাছটি একটু ছেঁটে দেওয়া যেতে পারে। খুব বেশি পানির প্রয়োজন হয় না।তবে গরমকালে দিনে দুবারও প্রয়োজন হতে পারে।
গাছটি প্রায় ৬ মিটার পর্যন্ত উঁচু ও ৩ মিটার প্রশস্ত হয়ে থাকে। এই গাছের পাতা চকচকে সবুজ, লম্বাটে এবং ২ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফুল সাধারণত হালকা বা গাঢ় নীল রংয়ের হয়ে থাকে। তবে বিভিন্ন বাগানে এর সাদা ও মেরুন রঙের প্রজাতিও চাষ করা হয়। সব মিলিয়ে সারাবিশ্বে এই প্রজাতির দশটি রকমফের দেখা যায়।
শাখার মাথায় পাঁচ পাপড়ির গুচ্ছবদ্ধ ফুলগুলো প্রায় এক ইঞ্চির মতো লম্বা হতে পারে। ফুলের বৃতি রোমশ। বীজের ভেতরের শাঁস আঠালো হওয়ায় পতঙ্গ ও পাখির গায়ে লেগে অনেক দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বীজ ও কাটিং থেকে সহজেই এই গাছের বংশবৃদ্ধি করা যায়। নীলচিতা ভেষজগুণেও অনন্য একটি উদ্ভিদ। সাধারণত মাথাব্যথা, হাড়ভাঙা, আচিল ও ক্ষত চিকিৎসায় এই গাছ ব্যবহূত হয়।
সব প্রজাতির চিতাগাছই বিষাক্ত ধরনের। গাছের যে কোনো অংশ গিলে ফেললে রক্তে বিষক্রিয়া হতে পারে। আবার এই গাছের রস গায়ে লাগলে ত্বকে তীব্র অ্যালার্জিক প্রদাহ হতে পারে। এসব কারণে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই এই নীল সুন্দরীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা উত্তম।
