জাবাটিকাবা বা জাবুটিকাবা Plinia cauliflora ব্রাজিলিয়ান গ্রেপ ট্রি বা আঙুর গাছ । এক অসাধারণ গাছ যার ফল সরাসরি কান্ডে ও ডালে ধরে। দেখতে আঙুরের মতো গোলাকার এই ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি এবং ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। গাছের কাণ্ড ও ডালপালাভতি সাদা রঙের অজস্র ফুল বেশ নান্দনিক।
ব্রাজিলে বছরে কয়েকবার ফল দিলেও আমাদের দেশে একবারই ফল দেয়। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের দিকে ফুল আসে এবং ফল পরিপক্ব হতে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। পাকা ফল স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া যায়। এর স্বাদ মিষ্টি এবং কিছুটা লটকন এবং কালোজামের মত।
ব্রাজিলের মিনাস জারিয়াস, গোইস এবং সাও পাওলো রাজ্যের স্থানীয় উদ্ভিদ। চিরসবুজ এই গাছ ধীরে বাড়ে, সাধারণত ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কচি পাতার রং ঈষৎ গোলাপি। দক্ষিণ আমেরিকার এই গাছ এরই মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
চাষের জন্য আর্দ্রতাসমৃদ্ধ হালকা অম্লীয় মাটি পছন্দ। তবে বালিবেষ্টিত ক্ষারীয় সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় অঞ্চলে বেশ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। গাছ কিছুটা খরাসহিষ্ণু।
৩ থেকে ৪ সেমি ব্যাসের এই ফলগুলোর আবরণ কিছুটা পুরু। গায়ের রং অনেকটা কালোজামের মতো। পরিপক্ব ফলের ভেতরের খাদ্যাংশ সুমিষ্ট। তাতে চারটি বীজ থাকে, অবশ্য প্রজাতিভেদে বীজের সংখ্যা ও আকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। পাকা ফল স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া যায়।
এ ফলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নানা ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে ফসফরাস, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন প্রকারের বি ভিটামিন। এ ছাড়া ফল থেকে জেলি, আচার বা জুস তৈরি করে খাওয়া যায়।
কলমের গাছগুলোয় পাঁচ বছরে ফলন পাওয়া যেতে পারে। বীজের গাছগুলোয় ১০ থেকে ২০ বছর সময় লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন গাছটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপন্ন গাছ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
জাবাটিকাবা শুধু সুস্বাদু নয়, এটি বাগানে এটকটি অনন্য সৌন্দর্য যোগ করে। এই গাছ চাষ করলে আপনিও এর স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
