লতা পারুল শোভাবর্ধক, চিরহরিৎ, কাষ্ঠল, শক্ত, লতানো গুল্ম। লতা পারুল আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে শোভা ছড়ায়। লতা-পারুল বা নীল-পারুল বা রসুন্ধি বা পারুল লতা ইংরেজি garlic vine এবং বৈজ্ঞানিক নাম Mansoa alliacea, একটি বিগনোনিসি Bignoniaceae পরিবারের লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এটি উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় প্রজাতি এবং মধ্য আমেরিকা ও ব্রাজিলে বিস্তার লাভ করেছে।
অনেকগুলো বড় বড় থোকায় এদের হালকা-বেগুনী বর্ণের ফুল ফোটে। এদের পাতা উজ্জ্বল সবুজ রঙের। পাতা কচলালে রসুনের মতো গন্ধ ছড়ায়। পাতায় রসুনের গন্ধ থাকায় এদের রসুন্ধি লতা নামেও ডাকা হয়। অন্য কোনো গাছ বা মাচায় আশ্রয় নিয়ে ঝোপাকৃতি হয়ে ওঠে। ফটকের ওপরে চমৎকার হয়। এরা দ্রুতবর্ধনশীল লতা। গাছে কোনো কাঁটা নেই।
লতা পারুলগাছে বছরে দুবার ফুল ফোটে। প্রথমবার ফুল ফোটে ঝরে যাওয়ার পরে। আবার নতুন করে কলি আসে এবং প্রচুর ফুল ফোটে। সাধারণত থোকায় থোকায় ফুল ফোটে এবং ফুলগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়। ফুল হালকা বেগুনি, অনেকগুলো বড় বড় থোকায় ফোটে।
লতা পারুলের ফুলটিকে দেখতে ছোট আকারের ঢোলকলমির বা মাইক ফুলের মত। ফুলের দল ফানেলের মত। দল ফানেলাকার, পাপড়ি পাঁচটি মুক্ত, পাতা যৌগিক, পত্রক আয়তাকার, ৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার লম্বা, মসৃণ। শীর্ষের পত্রক প্রায়ই আকর্ষীতে পরিণত হয়। এর লতা কোনো অবলম্বন বা বৃক্ষের গা ভর করে বেড়ে ওঠে এবং পরবর্তী সময়ে মাঝারি ঝোপে পরিণত হয়। শাখার অগ্রভাগে বড় থোকায় প্রচুর ফুল ফোটে। ফুল ফোটার আগে পাপড়ির অগ্রভাগের রং গাঢ় বেগুনি ও গোড়ার দিকের রং হালকা বেগুনি থাকে। ফুটন্ত ফুল সকালে সজীব থাকে। তবে রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপড়ি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে।
ফুল ও কলির রংও দেখতে চমৎকার। দেখতে যত সুন্দরই হোক, লতা পারুলের ফুলে কোনো ঘ্রাণ থাকে না। হালকা রোদ-ছায়া পরিবেশে লতা পারুল ভালো জন্মে এবং ফুলের উজ্জ্বলতা অটুট থাকে অনেক দিন। শাখা কলমের মাধ্যমে এর চাষ করা যায়। তা ছাড়া শিকড়ের কাটিং থেকেও চারা তৈরি করা যায়। কলমে চাষ করা যায়।
