পুষ্টি ও ওষুধি গুণাগুণের বিবেচনায় সজিনা বর্তমানে বসতবাড়ির জন্য আদর্শ সবজি বা গাছ। সজিনার ইংরেজি নাম Drumstick এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Moringa oleifera উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ হলেও শীত প্রধান এলাকা ছাড়া সব জায়গায়ই এটি পাওয়া যায়। বারোমাসি সজিনা গাছ সারা বছরই ফল দেয়। গাছে সব সময় ফুল ও কচি ফল হতে দেখা যায়।
জাতটির বৈশিষ্ট্যঃ-
এ জাতটি চারা রোপণের ৬ মাসের মধ্যে গাছে ফল বা ডাটা ধরবে এবং সারা বছরই তা পাওয়া যাবে। পলিমাটি সজিনা চষের জন্য সর্বোত্তম। এটি জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। কাটিং রোপণের জন্য উত্তম সময় এপ্রিল থেকে মে মাস। প্রতিটি লম্বা সজিনার ফলে ১০-১৫টি বীজ থাকে, এগুলো তিন শিরাবিশিষ্ট এবং ত্রিভুজাকৃতির। বীজ থেকে বংশবিস্তার সম্ভব হলেও অঙ্গজ বা কাটিং থেকে নতুন চারা তৈরি করাই সহজ এবং উত্তম।
কাটিং হতে চারা তৈরিঃ-
কাটিং থেকে চার তৈরি করা উত্তম। বয়স্ক গাছ থেকে প্রুনিং এর সময় যে ডাল কেটে ফেলা হয় তা থেকে রোগ ও পোকামাকড়মুক্ত সতেজ ও স্বাস্থ্যবান শক্ত ডাল ২.৫-৩ ফুট (৭৫-৯০ সেমি.) লম্বা ও ৩-১৬ সেমি. ব্যাসবিশিষ্ট ডাল নির্বাচন করা উত্তম। প্রস্তুতকৃত কাটিং সরাসরি মূল জমিতে রোপণ করা হয়। কাটিং রোপণের জন্য উত্তম সময় এপ্রিল থেকে মে মাস।
টব বা ড্রামে মাটি তৈরিঃ-
মাটি তৈরি করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো সর্বনিম্ন টবের আকার ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি হতে হবে। সজিনার জন্য পলি দো-আঁশ মাটি সর্বোত্তম। প্রথমে ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটির সাথে ২ ভাগ পঁচা গোবর/ ভার্মি কম্পোস্ট, ১ ভাগ কৈকোপিট, ১ কেজি খৈল, ১ কেজি হাড় কুচি, ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি সার এবং ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার দিয়ে ড্রাম বা টবে ভরে ২০-২৫ দিন রেখে দিতে হবে। ৪-৫ দিন পর পর হালকা পানি দিয়ে মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার এভাবেই রেখে দিতে হবে । ২০-২৫ দিন পর একটি সবল সুস্থ চারা সেই টবে/ ড্রামে রোপণ করতে হবে।
সার প্রয়োগঃ-
প্রতি বছর বর্ষার আগে ও পরে প্রতি টবের জন্য ৪-৫ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি. এবং জিপসাম, বোরাক্স ও জিঙ্ক সালফেট ১০ গ্রাম করে টবের চতুর্দিকের মাটি ভালোভাবে খুঁচিয়ে সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
সজিনার মাথা কাটা বা ঝোপালোকরণঃ-
গাছ ১ মিটার উচ্চতা হলেই প্রথম ডগা কাটতে হবে। গাছকে বেশি লম্বা হতে না দিয়ে ২-৩ বার মাথা কেটে দিলে গাছে বেশি ফল ধরে ও দ্রুত বড় হবে। চারা রোপণ করলে প্রথমে ১০ সেমি. আগা কাটতে হবে। দ্বিতীয় বার ডগা বের হলে তা ২০ সেমি. পর কেটে ফেলতে হবে। পছন্দসই ডগা রেখে বাকিগুলো সব কেটে ফেলতে হবে। এতে করে গাছের আকৃতি ঝোপালো, ফলন বেশি এবং ফল সংগ্রহ সুবিধা হবে। নতুবা লম্বা ডালে অল্প সজিনা হবে যা পাড়তে গেলে ডাল কাটতে হবে।
