কাঠলিচু এক প্রকার চিরসবুজ লিচু জাতীয় সুস্বাদু ফল গাছ। লিচুর থেকে কোন অংশে কম নয় কাঠলিচু বা লংগান। বাদামি খোলসে আবৃত আর মার্বেল আকৃতির সুমিষ্ট ফল হলো লংগান। অনেকে এটাকে আঁশফল, কাঠলিচু বা পিচফলও বলে থাকেন। এর ভেতরটা লিচুর মত রসালো এবং সুমিষ্ট। তাই লিচুর বিকল্প হিসাবে খেতে পারেন দারুন স্বাদের এই ফল।
আঁশফল স্থানভেদে কাঠলিচু, ছোট লিচুু বা লংগান নামেও পরিচিত। তবে আভিধানিক নাম আঁশফল। এ ফল ও লিচু গাছের ফল ধরার সময় একই। ফল দেখতেও অনেকটা লিচুর মতো, গোলাকার। বীজও গোলাকার। তবে আকারে ছোট, রসাল অংশ খুবই কম। লিচুর চেয়ে আমিষের পরিমাণ বেশি।
এর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Dimocarpus longan, যা ক্রান্তীয় অঞ্চলের বৃক্ষ। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদ্ভিদ। এই গাছ ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের পুষ্প পুংপুস্পক এবং উভলিঙ্গ, পুংকেশর ৮টি। কাঠলিচুর ফল ঝুলন্ত এবং আঙ্গুরের মতো গুচ্ছাকার।
পুষ্টিগুণ
এই ফলে প্রচুর শর্করা, ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদান আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে ৭২ গ্রাম পানি, ১০৯ কিলোক্যালরি শক্তি, ৮.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২৮০ আইইউ ভিটামিন এ, ২.০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৬.০ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১.০ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৫ গ্রাম ফ্যাট বিদ্যমান।
উপকারিতা
- কাঠলিচুতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার হজমে দারুণভাবে সহায়তা করে।
- মনোপোজ-পরবর্তী নারীদের শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সরবরাহে কাঠলিচু খুবই উপকারী।
- কাঠলিচুর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে বিটা ক্যারোটিনসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে।
- কাঠলিচু প্রচণ্ড ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
- কাশি ও টিউমার দমনে কাঠলিচু খুবই কার্যকর।
- কাঠলিচুর শুকনো শাঁস পাকস্থলীর প্রদাহে, অনিদ্রা দূর করতে এবং বিষের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কাঠলিচু গাছের পাতা অ্যালার্জি, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- এই ফল উদরাময় নিবারক ও কৃমিনাশকে দারুণ কার্যকর।
- এই ফল শারীরিক দুর্বলতা তাড়াতে অতুলনীয়। অবসাদ দূর করতেও এর দারুণ সুনাম।
- কাঠলিচুতে থাকা লৌহ দেহের ক্ষয়পূরণে সহায়ক। দেহের মাংসপেশির ক্ষয়রোধ করতে কাঠলিচু খুবই উপকারী।
- হৃদযন্ত্র সুরক্ষা এবং সক্রিয় রাখতে কাঠলিচু উপকারী ভূমিকা পালন করে। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশফল খাওয়া উচিত।
- কাঠলিচুর ভিটামিন ‘সি’ নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধে দেহকে শক্তিশালী করে তোলে।কোনো ধরনের ফ্যাট না থাকায় ওজন কমাতেও এ ফল সাহায্য করে।
- পাকা কাঠলিচুতে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রোটিন আছে। যেকোনো দুর্বলতায় ভুগলে চার-পাঁচ চা চামচ ফলের রস প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে একবার খেলে দুর্বলতা কমে যাবে।
