ব্ল্যাকবেরি Blackberry একটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফল, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ব্ল্যাকবেরি খুবই সুস্বাদু ফল। ব্ল্যাকবেরি একটি বিদেশী ফল। দেখতে কালো, খাচকাটা খাচকাটা ফল, যা অত্যন্ত মিষ্টি, টেষ্টি ও অনেক বেশি পুষ্টি কর একটি ফল। বাংলাদেশে এই ফলের চাষ খুব একটা দেখা যেত না। তবে বর্তমানে এই ফলটি অনেকেই এখন বাসা বাড়ীর আঙ্গিনায় কিংবা ছাদে চাষ করছে। এটার ফলন ভালো হয় আর এটা ছাদে ড্রামেও লাগানো যায়।
এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্ল্যাকবেরির উপকারিতা:
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
ব্ল্যাকবেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন, ভিটামিন C, এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা দেহের কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। - রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
উচ্চমাত্রার ভিটামিন C এবং ভিটামিন A থাকার কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ঠান্ডা-সর্দির মতো সমস্যা কমায়। - হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
ব্ল্যাকবেরিতে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। - মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়
এতে থাকা পলিফেনলস এবং অ্যান্থোসায়ানিনস মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সুস্থ রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং আলঝেইমারসহ বিভিন্ন নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। - ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ব্ল্যাকবেরিতে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এবং প্রচুর ফাইবার থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। - হজমশক্তি উন্নত করে
ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফল হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। - ত্বকের জন্য উপকারী
ব্ল্যাকবেরিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও তারুণ্যদীপ্ত রাখতে সাহায্য করে এবং ব্রণ ও বলিরেখা প্রতিরোধ করে। - হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস থাকে, যা হাড়কে শক্তিশালী করে এবং অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। - ওজন কমাতে সাহায্য করে
কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় ব্ল্যাকবেরি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। - ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায় এবং দেহকে বিষাক্ত পদার্থ থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
কিভাবে খাবেন?
কাঁচা খাওয়া যায়।স্মুদি, সালাদ বা জুস বানিয়ে খাওয়া যায়।ওটমিল বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
