আমলকি দক্ষিণ এশিয়ার এক বহুল পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছ শুধু ঔষধি গুণের জন্য বিখ্যাত নয়, বরং এর কাঠ, পাতা ও ফলের বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও ইউনানী চিকিৎসায় আমলকি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে। এটি এক প্রকার চিরসবুজ বৃক্ষ যা ৮-১৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
আমলকী ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Phyllanthus emblica ফাইলান্থাসি পরিবারের ফাইলান্থুস গণের একপ্রকার ভেষজ ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম আমলক। ইংরেজি নাম amla বা Amloki, Malacca tree, emblic myrobalan, বা emblic, myrobalan রোমশ বিহীন বা রোমশ পর্ণমোচী বৃক্ষ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কায় এর ব্যাপক চাষ হয়।
আমলকি গাছ দেখতে মধ্যম আকৃতির, যার পাতা ছোট ও বিপরীতমুখীভাবে সাজানো থাকে। গাছের কাঠ শক্ত এবং গাঢ় বাদামি রঙের। শীতকালে গাছে হলুদাভ সবুজ রঙের ছোট ফুল ফোটে এবং বসন্তকালে ফল ধরে। আমলকি ফল গোলাকার, হালকা সবুজ বা হলুদাভ রঙের, যার স্বাদ টক-মিষ্টি। ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মিনারেল রয়েছে।
আমলকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী।
আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।
চোখ ভালো রাখার জন্য উপকারী আমলকি। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
আমলকি সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভালো কাজ করে। ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী। শরীর ঠান্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।
আমলকি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকি গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।
