গোলমরিচ একটি লতাজাতীয় উদ্ভিদ। যার ফলকে শুকিয়ে মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। গোল মরিচের বৈজ্ঞানিক নাম Piper nigrum ইংরেজি নাম Black pepper. পিপারাসি গোত্রের পিপার গণের একটি লতাজাতীয় উদ্ভিদ। এদের ফলকে শুকিয়ে মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। গোল মরিচ ফলটি গোলাকার, ৫ মিলিমিটার ব্যাসের, এবং পাকা অবস্থায় গাঢ় লাল বর্ণের হয়ে থাকে। এর মধ্যে মাত্র ১টি বীজ থাকে। গোল মরিচ গাছের আদি উৎস দক্ষিণ ভারত। পৃথিবীর উষ্ণ ও নিরক্ষীয় এলাকায় এটির চাষ হয়ে থাকে।
গোলমরিচকে বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যসম্মত মসলা হিসেবে মনে করা হয়। এছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই এদের আয়ুর্বেদিক ব্যবহার দেখা যায়। গোল মরিচ দু রকমের সাদা ও কালো। অর্ধ পক্ক দানাগুলো শুকিয়ে গেলেই কালো গোল মরিচ। গোলমরিচের দানা যখন পুরোপুরি পেকে যায় তখন ওপরের কালো খোসাটা ছাড়িয়ে দিলেই পাওয়া যায় সাদা গোল মরিচ। গোল মরিচ একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন লতা । এর আছে নানা ঔষধি গুণাগুণ।
গোলমরিচ বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় গাছ। লতা রোপনের ৪/৫ বছর পর থেকে ফল ধরতে থাকে। ৮-৯ বছর বয়সে পূর্ণ উত্পাদন ক্ষমতায় আসে এবং ২০-২৫ বছর পর্য়ন্ত ভালো ফলন দেয়। গোলমরিচ গাছ সাধারণত সহায়ক গাছকে আকড়িয়ে বেড়ে ওঠে। এই গাছ সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এই গাছের পাতা দেখতে অনেকটা পান পাতার মতো। একটি গাছ থেকে বছরে দেড় কেজি পর্যন্ত গোল মরিচ পাওয়া যায়।
উপযুক্ত মাটিও জমি –
পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয় ও আর্দ্রতা বেশি এমন এলাকায় গোলমরিচ ভালো জন্মে। এ ফসল ১০০ থেকে ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। পাহাড়ি এলাকার মাটি এ ফসল চাষের জন্য খুব উপযোগী।
বংশ বিস্তার
গোলমরিচের বীজ থেকে বংশবৃদ্ধি করা যায়। কিন্তু এতে উৎপাদন পেতে অনেক বেশি সময় লাগে। গোলমরিচের গুণাগুণ মাতৃগাছের মতো নাও হতে পারে। সেজন্য সাধারণত অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা গোলমরিচের বংশবৃদ্ধি করা হয়। সাধারণত এক মুকুল একপত্রী কাটিং দ্বারা বংশবৃদ্ধি করা হয়। ওই পদ্ধতি দ্বারা অতি সহজেই গোলমরিচের চারা প্রস্তুত করা যায়।
চারা লাগানো
গোলমরিচ ঠেস গাছের ছায়ায় লাগাতে হয়। ঠেস গাছ আগে থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার দূরত্বে লাগিয়ে গোল মরিচের কাটিং লাগানো হয়। ২ থেকে ৩টি কাটিং এক গর্তে লাগানো হয়।
চারা রোপণ পদ্ধতি –
গোলমরিচের চারা দুই প্রকারে রোপণ করা যায়। যদি বাগানে সুপারি, নারকেল, আম, মান্দার, কাঁঠাল ইত্যাদি আশ্রয় গাছ হিসেবে ব্যবহারের গাছ থাকে, তখন ওই গাছ থেকে দেড় হাত দূরে, দেড় হাত দৈর্ঘ্য, দেড় হাত প্রস্ত এবং দেড় হাত গভীর গর্ত করতে হয়। গোবর, পচনসার, বালুযুক্ত মাটি দিয়ে গর্তটি পূর্ণ করে চারা রোপণ করা হয়। গাছ ওঠার সুবিধার জন্য বাঁশের অবলম্বন দেয়া
ফসল তোলা
মে থেকে জুন মাসে ফুল আসে এবং ৬ থেকে ৮ মাস পর ফল তোলা যায়। থোকায় ২/১টি ফল উজ্জ্বল কমলা বা বেগুনি হলে সংগ্রহ করে ৭ থেকে ১০ দিন রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি গাছ থেকে ৫-৬ কেজি কাঁচা গোলমরিচ উৎপাদন হয়। কাঁচা গোলমরিচ থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ শুকনো গোলমরিচ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, একটি গাছ থেকে গড়ে দেড় থেকে দুই কেজি শুকনো গোলমরিচ পাওয়া যায়।
