নজরকাড়া রঙ আর মন ভরানো সুবাসের জন্য স্বর্ণচাঁপা বিখ্যাত। বাংলাদেশের শৌখিন ফুলের মধ্যে সুগন্ধি স্বর্ণচাঁপা বা স্বর্ণচম্পা Magnolia গণের Magnoliaceae পরিবারের শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির একটি উদ্ভিদ। এর সংস্কৃত নাম চম্পক, বাংলায় প্রচলিত নাম চাঁপা এবং হিন্দিতে চাম্পা নামে পরিচিত। এই গাছের আদি নিবাস ধরা হয় ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন বা তার আশপাশের অঞ্চল। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Michelia champaca.
এটি একটি চির সবুজ বৃক্ষ যা ১৮ – ২১ মিটার পর্যন্ত উচু হতে পারে। এর ছাল ধূসর বর্ণ, কচি কাণ্ড লোমশ, পাতা আট থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা, ১.২ থেকে চার ইঞ্চি চওড়া, কিন্তু অগ্রভাগের দিকটা ক্রমেই সরু এবং বোঁটা প্রায় এক ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। এর বোঁটা ও কচি কাণ্ডের মাঝখান থেকে ফুল আসে। অনেক সময় কচি কাণ্ডের অগ্রভাগেও ফুল ফুটতে দেখা যায়। এদের ব্যাস এক-দুই ইঞ্চি, বোঁটা ছোট ও ফুল সুগন্ধি ।পাতা চ্যাপ্টা, উজ্জ্বল-সবুজ হয়। পাপড়িসংখা প্রায় ১৫টি।
ফুলের রং সাদা, লাল, হলদে হয়। বাংলাদেশে হলুদ রংটাই বেশি দেখা যায়। আবহাওয়া, মাটি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন রঙের স্বর্ণচাঁপা ফোটে।
এর বীজের প্রতি পাখিরা অধিক আকৃষ্ট হয়। ফল আকৃতিতে অনেকটা বিলেতি কুলের মতো। তবে অতটা লম্বা নয়। এই ফল কাক ও শালিকের প্রিয় খাবার। বীজ এক থেকে চারটি, ধূসর বর্ণ, কিন্তু পাকলে গোলাপি বা লাল রঙের হয়ে থাকে।
স্বর্ণচাঁপা উপকারী গাছ। বিভিন্ন ভেষজ ওষুধ তৈরিতে এই গাছ ব্যবহার করা হয়। ওষুধ অর্থে এই গাছের ব্যবহার্য অংশ—ছাল, বীজ, পাতা ও মূল। অজীর্ণ ছাড়া যেকোনো রকমের পেট ব্যথায় স্বর্ণচাঁপাগাছের পাতার রস এক চা চামচ দুই থেকে পাঁচ ফোঁটা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পানিযোগে খেলে ব্যথা কমে যায়। পায়ের কুনি রোগের জন্য এর বীজ উপকারী। শ্লেষ্মার বিকারজনিত মাথা ধরায় এই গাছের ছালের চূর্ণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মাথা ধরা সেরে যায়। এ ছাড়া স্বর্ণচাঁপা ফুল বেটে কয়েক দিন পায়ে লাগালে পা ফাটার সমস্যা দূর হয়।
